শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ | সময়: রাত ৯:৩২

যুদ্ধের প্রভাবে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, চীনের বৃহত্তম বাণিজ্য মেলায় উদ্বেগ

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় চীনের উৎপাদন খাতে চাপ তৈরি হয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশটির সবচেয়ে বড় বাণিজ্য মেলা ক্যান্টন ফেয়ারে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীদের ওপর।
চীনের প্লাস্টিক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক শাও হাইক্সিয়া জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তাদের কাঁচামালের খরচ প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। তবে বিদেশি ক্রেতাদের ওপর পুরো খরচ চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, আমাদের দাম নতুন করে নির্ধারণ করতে হয়েছে, কিন্তু ক্রেতারা এখনও সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছেন। বিদেশি বাণিজ্যনির্ভর কোম্পানির জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়েছে।
তার কারখানার মুনাফা কমে ৫-৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগে প্রায় দ্বিগুণ ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক চাহিদা কমে যেতে পারে, যা চীনের রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি।
এবারের ক্যান্টন ফেয়ারে প্রায় ৩২ হাজার প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে, যেখানে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পণ্য প্রদর্শন করা হচ্ছে।
কিছু প্রতিষ্ঠান উৎপাদন কমে যাওয়ার কথা জানিয়েছে, অনেকেই কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির কারণে লোকসানে বিক্রি করছে, আবার কেউ কেউ বাড়তি খরচ ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে।
একটি বৈদ্যুতিক পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জানান, প্লাস্টিক, তামা ও অ্যালুমিনিয়ামের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে রপ্তানিনির্ভর কিছু কোম্পানি সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছে। যুদ্ধের কারণে ওই অঞ্চলে বিক্রি প্রায় স্থগিত হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কিছু প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় উৎপাদন সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে, যেখানে শ্রম খরচ কম এবং শুল্কও তুলনামূলক কম।
এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভাব্য চীন সফরকে ব্যবসায়ীরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এটি ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক স্থিতিশীল হওয়ার ইঙ্গিত দিতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএসএম

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সম্পর্কিত পোস্ট