শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ | সময়: রাত ৯:২৯

এক আল্লাহর ওপর ইমান

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর সত্তা ও গুণাবলীতে একক, যাঁর কোনো অংশীদার নেই, প্রতিপক্ষও নেই। তিনি সেই সত্তা যিনি জিন ও মানুষকে সৃষ্টি করেছেন শুধু তাঁর ইবাদতের জন্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তাঁর সত্তা ও গুণাবলীতে কোনো শরিক নেই। আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা ও অভিভাবক মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসুল, যিনি নবী ও রাসুলদের সরদার। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সাহাবিবর্গের ওপর—যাঁরা মানুষের নেতা এবং সত্যের ধারক—কেয়ামত পর্যন্ত সর্বদা রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
আম্মা বা’দ
লোকসকল! আল্লাহ তাআলাকে যেমন সত্ত্বাগত দিক থেকে এক একক বলে বিশ্বাস করতে হবে, গুণগত দিক থেকেও এক ও একক বলে বিশ্বাস করতে হবে, ইবাদতের ক্ষেত্রেও তাঁকে এক ও একক বলে বিশ্বাস করতে হবে এবং কার্যক্ষেত্রেও শুধু তাঁরই ইবাদত করতে হবে। এরই নাম তাওহিদ বা এক আল্লাহর ওপর ইমান। তাওহিদ সকল নেক আমলের ভিত্তি। আল্লাহ তাআলা বান্দার ওপর তাওহিদ ফরজ করেছেন এবং গোপনে ও প্রকাশ্যে ইবাদতে ইখলাস ফরজ করেছেন। সুতরাং আপনারা শুধু তাঁরই ইবাদত করুন যেমনটি তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, যদি আপনারা মুসলিম হয়ে থাকেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন, `তাদেরকে কেবল এই নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে তাঁরই জন্য দ্বীনকে একনিষ্ঠ করে, সালাত কায়েম করে এবং জাকাত দেয়; আর এটিই হল সঠিক দ্বীন।’
আপনারা মূর্তিপূজা থেকে বেঁচে থাকুন, এটা ইবাদতের ক্ষেত্রে শিরক। আল্লাহ তাঁর সাথে শরিক করার গুনাহ ক্ষমা করেন না, এ ছাড়া অন্যান্য গুনাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন। আল্লাহ তাআলা বাতিল উপাস্যদের অসারতা বর্ণনায় ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ছাড়া যাদের তোমরা ডাকো, তারা তোমাদের মতোই বান্দা। সুতরাং তোমরা তাদের ডাকো, তারা যেন তোমাদের ডাকে সাড়া দেয়, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।’
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, বলো, তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদের তোমরা ডাকো, তারা জমিনে কী সৃষ্টি করেছে তা আমাকে দেখাও। অথবা আসমানসমূহে কি তাদের কোনো অংশীদারিত্ব আছে?’
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদের ডাকো, তারা একটি মাছিও সৃষ্টি করতে পারবে না, যদিও তারা এ জন্য সবাই একত্রিত হয়। এবং মাছি যদি তাদের থেকে কোনো কিছু ছিনিয়ে নেয়, তবে তারা তা উদ্ধার করতে পারবে না। উপাসক ও উপাস্য উভয়েই কত দুর্বল!’
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, `এগুলো তো কেবল কিছু নাম যা তোমরা ও তোমাদের পূর্বপুরুষরা রেখেছ, এ ব্যাপারে আল্লাহ কোনো দলিল নাজিল করেননি। তারা কেবল ধারণা ও নিজেদের প্রবৃত্তি অনুসরণ করে, অথচ তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তাদের কাছে হেদায়েত এসেছে।’
এভাবে কোরআনের অসংখ্য সুস্পষ্ট আয়াতে ও বিশুদ্ধ হাদিসসমূহে শিরকে জড়িত হওয়ার ব্যাপারে মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে। শিরকের সামান্যতম সন্দেহ বা সাদৃশ্য রয়েছে এমন কাজগুলোও ইসলামে নিষিদ্ধ; যেমন সম্মানসূচক সিজদা ইসলামে নিষিদ্ধ, পূজার উদ্দেশ্য ছাড়া কোনো প্রাণীর মূর্তি বানানোও ইসলামে নিষিদ্ধ।
নবীজি (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই ফেরেশতারা সেই ঘরে প্রবেশ করে না যাতে মূর্তি বা ছবি থাকে।’
নবীজি (সা.) বলেন, ‘যদি আমি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে সিজদা করার নির্দেশ দিতাম, তবে নারীকে নির্দেশ দিতাম তার স্বামীকে সিজদা করতে। তাই আপনারা শিরক থেকে খুব সতর্ক থাকুন।’
অভিশপ্ত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক ক্ষমা করেন না এবং শিরক ছাড়া অন্যান্য গুনাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।’
আল্লাহ আমাদের জন্য ও আপনাদের জন্য কোরআনের মাধ্যমে বরকত দান করুন, কোরআনের হিকমতপূর্ণ বাণীসমূহ দ্বারা আমাদের ও আপনাদের উপকৃত করুন। আমার জন্য, আপনাদের জন্য ও সকল মুসলমানের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। সুতরাং আপনারা তাঁর কাছে ক্ষমা চান; নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল ও দয়ালু।
ওএফএফ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সম্পর্কিত পোস্ট