বুধবার, ৬ মে ২০২৬ | সময়: সকাল ৭:৩৬

ইরান যুদ্ধের প্রভাব: বায়ু বিদ্যুৎ খাতে একক আধিপত্য গড়ছে চীন

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের কারণে তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট কাজে লাগিয়ে বায়ু বিদ্যুৎ খাতে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে গণচীন।
চীনের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ের চূড়ায় সারি সারি উইন্ড টারবাইন স্থাপন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি চীনের পশ্চিমাঞ্চলের মরুভূমিতে দীর্ঘ বিস্তৃত বায়ুকল প্রকল্প স্থাপন করা হয়েছে। এসব কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ অত্যাধুনিক হাই-ভোল্টেজ লাইনের মাধ্যমে উপকূলীয় শিল্পাঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর বিশ্বের বাকি দেশগুলোর মোট স্থাপিত বায়ু বিদ্যুৎ ক্ষমতার চেয়ে তিন গুণ বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে চীন। একই সময়ে দেশটির টারবাইন রপ্তানিও দ্রুত বেড়েছে। বর্তমানে বিশ্বের ছয়টি বৃহত্তম উইন্ড টারবাইন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানই চীনের। তবে অতীতে এই খাতে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর আধিপত্য ছিল।
এছাড়া সমুদ্রের গভীর এলাকায় অফশোর উইন্ড প্রকল্প দ্রুত সম্প্রসারণ করছে চীন। এসব প্রকল্প উপকূলের কাছাকাছি থাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও কার্যকর হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে এশিয়ার অনেক দেশ জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে চাপের মধ্যে পড়লেও চীন তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে। দেশটির বিশাল বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও উৎপাদন সক্ষমতা এই পরিস্থিতিতে বড় সুবিধা দিচ্ছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে জীবাশ্ম জ্বালানির দিকে বেশি ঝোঁক দেখা যাচ্ছে। এতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে ধীরগতি এসেছে এবং অনেক বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থগিত রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে স্থানীয় কিছু মানুষ শব্দ দূষণসহ বিভিন্ন সমস্যার অভিযোগ তুলেছেন। যদিও সরকার সমর্থিত হওয়ায় এসব প্রকল্পে বড় ধরনের বাধা দেখা যাচ্ছে না।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, জ্বালানি একটি কৌশলগত বিষয় এবং বায়ু ও সৌর শক্তিতে অগ্রগতি ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
চীন এরই মধ্যে বায়ু বিদ্যুৎ খাতে রপ্তানিও বাড়াচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে চীনের টারবাইন রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে পশ্চিমা ও ভারতীয় প্রতিযোগীরা চাপের মুখে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রীয় সহায়তা, ভর্তুকি এবং কম উৎপাদন খরচের কারণে চীনা কোম্পানিগুলো বৈশ্বিক বাজারে দ্রুত আধিপত্য বিস্তার করছে।
সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস
কেএম 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সম্পর্কিত পোস্ট