শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬ | সময়: বিকেল ৪:২৫

চাকার চক্রে ভাগ্য বদল, দরকার সরকারের সুদৃষ্টি

Daraz horizontal banner

• মোটরসাইকেলে ভর করে সংসার চলছে তাদের• রাইড শেয়ারিংয়ে প্রায় ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান• পাঠাওয়ের নিবন্ধিত চালক ও রাইডার সাড়ে ৪ লাখ• উবারের নিবন্ধিত চালক ও রাইডার প্রায় সাড়ে ৩ লাখ
গণপরিবহনের নাজুক অবস্থা ও যানজট এড়িয়ে স্বস্তিতে যাতায়াতের জন্য দেশে দিন দিন বাড়ছে মোটরসাইকেলের জনপ্রিয়তা। তুলনামূলক কম দাম এবং জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ সাশ্রয়ী হওয়ায় দুই চাকার এই বাহনটি এখন অনেকের সঙ্গী হয়ে উঠছে। এছাড়া রাইড-শেয়ারিং সেবা ঘিরে এটি কারও কারও কর্মসংস্থানের উৎসেও পরিণত হয়েছে। মোটরসাইকেল নিয়ে জাগো নিউজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক এমদাদুল হক তুহিনের তিন পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের তৃতীয় ও শেষ পর্ব আজ।
‘বেতন ৩৬ হাজার টাকা। ছেলে-মেয়ের স্কুলের বেতনই ১৬ হাজার। এই বেতন দিয়ে বাসাভাড়া ও সংসারের অন্য খরচ চালিয়ে নিতে পারছি না। বাধ্য হয়ে অফিস শেষে মোটরসাইকেলে তিন-চার ঘণ্টা রাইড শেয়ার করি। অ্যাপ ও ক্ষ্যাপে চালিয়ে মাসে অন্তত অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা আয় হয়, যা জীবনে কিছুটা স্বস্তি এনেছে।’

পাঠাওয়ের মাধ্যমে একজন সক্রিয় মোটরসাইকেল রাইডার মাসে সর্বোচ্চ প্রায় ৬০ হাজার টাকা এবং একজন কার ক্যাপ্টেন সর্বোচ্চ প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করার সুযোগ পান। পাঠাওয়ে আমরা সব সময় প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান, ন্যায্য আয়ের কাঠামো এবং মানসম্মত সেবার মাধ্যমে রাইডার ও ব্যবহারকারীদের ক্ষমতায়নে কাজ করছি।- পাঠাওয়ের সিইও ফাহিম আহমেদ

কথাগুলো এভাবেই বলছিলেন চলিশোর্ধ্ব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার রাহাত রহমান। রাইড শেয়ারিং রাহাতের বিকল্প আয়ের কর্সংস্থান হলেও স্বপনের আয়ের মূল উৎসই এটি। প্রায় ছয় বছর ধরে রাইড শেয়ারিংয়ে যুক্ত স্বপনের ভাষায়- ‘আয় যাই হোক, এই আয়ের ওপরই আমার পরিবার চলছে। গ্রামে রেস্টুরেন্টের ব্যবসা দিয়েছিলাম। সেটিতে লোকসান হওয়ায় সব ছেড়ে ঢাকায় এসে রাইড শেয়ারিং শুরু করি। এখন এটিই আমার আয়ের জায়গা, এটিই আমার সব।’

শুধু রাহাত ও স্বপন নন, নিয়মিত বেতন না হওয়ায় গত ডিসেম্বরে একটি সিকিউরিটি কোম্পানির চাকরি ছেড়ে মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ারিং শুরু করেছেন মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা আরিফ হোসেন। রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় কথা হলে আরিফ বলেন, ‘গত ১৬ ডিসেম্বর চাকরি ছেড়েছি। কাজ নেই, বসে তো থাকতে পারি না। পরিবার আছে, সংসার আছে। মেয়েটার বয়স তিন বছর। নিয়মিত বেতন না থাকায় চাকরি ছেড়ে বাধ্য হয়ে রাইড শেয়ারিং শুরু করেছি। দিনে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকার মতো ভাড়া মারতে পারছি। কিন্তু এই টাকা দিয়ে সংসার চলবে না। তারপরও আপাতত চালিয়ে যাচ্ছি।’
দেশে রাইড শেয়ারিং এখন লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের উৎস। এটি কারও প্রধান কিংবা বিকল্প আয়ের উৎস। কেউ অ্যাপসে আবার কেউ বা চুক্তিতে রাইড শেয়ারিং করছেন। উবার ও পাঠাও- এ দুটি অ্যাপস ব্যবহার করে অন্তত আট লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এর বাইরে এ দুটি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার না করেও রাইড শেয়ার করছেন লাখ লাখ মানুষ। সে হিসাবে ১০ লাখের বেশি মানুষ রাইড শেয়ারিং পেশায় জড়িত রয়েছেন বলে ধারণা করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

প্রথম কয়েক বছর অ্যাপসে চালাতাম। এখন আর অ্যাপসে চালাই না। চুক্তিতে ভাড়া মারি। কারণ অ্যাপসে ভাড়া কম আসে। অ্যাপসে চালালে তেলের টাকাও হয় না।- চালক স্বপন

প্রায় ১৬ বছর ধরে ড্রাইভিং পেশায় জড়িত বরিশালের কবির হোসেন। ৮ বছর ধরে উবারে গাড়ি চালাচ্ছেন তিনি। মধ্য বাড্ডার বাসিন্দা কবির হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি ১৬ বছর ধরে ড্রাইভিং করছি। উবারে ৮ বছর কমপ্লিট হয়েছে। এখন টয়োটা এক্সিও গাড়ি চালাই। উবার ব্যবহার করে দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা গাড়ি চালাই। কোনো কোনো দিন ১৪ ঘণ্টাও চালাতে পারি। এখন ২৫ শতাংশ কমিশন নেয়।’

কবির আরও বলেন, ‘এই পেশার ওপর ভর করেই আমার সংসার চলছে। গত মাসে গাড়ি চালিয়ে ১ লাখ ৯ হাজার টাকা আয় করেছি। এর মধ্যে উবারে ৬৬ হাজার টাকা ও বাকিটা চুক্তিতে আয় হয়েছে। গাড়িটি আমার নয়, চুক্তিতে চালাই।’
পাঠাওয়ের নিবন্ধিত চালক ও রাইডার সাড়ে চার লাখের বেশি
২০১৬ সালে পাঠাও ও উবার দেশে রাইড শেয়ারিংয়ের যাত্রা শুরু করে। দেশে শুধু পাঠাওয়ের নিবন্ধিত চালক ও রাইডারের সংখ্যাই ৪ লাখ ৫০ হাজারের বেশি। এর মধ্যে নিবন্ধিত মোটরসাইকেল রাইডারের সংখ্যা তিন লাখেরও বেশি। আর এক লাখের বেশি নিবন্ধিত চালক পাঠাও প্ল্যাটফর্মে যুক্ত রয়েছেন। দেশীয় এই প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫ সালে বিশ্বখ্যাত মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সম্ভাবনাময় শীর্ষ ১০০টি স্টার্টআপ কোম্পানির তালিকায়ও উঠে আসে। রাইড শেয়ারিংয়ের বাইরেও প্রতিষ্ঠানটি খাদ্য সরবরাহ, ই-কমার্স, লজিস্টিকস ও ফিনটেক সেবা দিচ্ছে।

গাড়িভাড়া নিয়ে কিংবা কিনে অনেকেই রাইড শেয়ারিং করছেন। এতে তাদের আয়ও ভালো হচ্ছে। এটি অর্থনীতির গতিকে সচল রাখছে। অনেকেই এখানে কর্মসংস্থান পাচ্ছেন। ফলে রাইড শেয়ারিং খাত নিয়ে সরকারের আরও মনোযোগ দেওয়া উচিত।- ডিসিসিআই সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম খান

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, পাঠাওয়ের মোটরসাইকেল রাইড সেবার মাধ্যমে প্রতি বছর ৪০ লাখের বেশি ব্যবহারকারী যাতায়াত করেন। একই সময়ে পাঠাওয়ের কার রাইড সেবা নেন প্রায় ২৫ লাখের বেশি ব্যবহারকারী। আর পাঠাও ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম সর্বনিম্ন সার্ভিস চার্জ কাঠামো বজায় রাখে। মোটরসাইকেল রাইডের ক্ষেত্রে সার্ভিস চার্জ সর্বনিম্ন ১ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে এবং গাড়ির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় বা নতুন চালকদের জন্য শূন্য শতাংশ সার্ভিস চার্জ সুবিধাও দেওয়া হয়। রাইডারের দৈনিক বা মাসিক কার্যক্রম ও রাইড সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে সার্ভিস চার্জ নির্ধারিত হয়। অর্থাৎ, যত বেশি রাইড, তত কম সার্ভিস চার্জ।

আরও পড়ুন
নির্বাচন ঘিরে বিক্রি বেড়েছে মোটরসাইকেলের২০২৪ সালে দেশের অর্থনীতিতে উবারের অবদান ৫৫০০ কোটি টাকা
রাইড শেয়ারিংয়ে পাঠাওয়ের জনপ্রিয়তা কমেছে কি না জানতে চাইলে এক ই-মেইল বার্তায় প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ‘বিষয়টি ঠিক সে রকম নয়। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে রাইড-শেয়ারিং বাজার উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে, ফলে প্রতিযোগিতা বেড়েছে। তবে, এই প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের মধ্যেও পাঠাও মোটরসাইকেল রাইড ব্যবহারকারীদের কাছে অন্যতম শীর্ষ পছন্দ হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। পাঠাওয়ের বাইক, কার, পার্সেল ও ফুড- এই চারটি সেবার মাধ্যমে বছরে ৮৫ লাখের বেশি ব্যবহারকারী সেবা নেন। এসব সেবা পরিচালনায় সারাদেশে পাঠাওয়ের নিবন্ধিত চালক ও রাইডারের সংখ্যা ৪ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি।’
জানতে চাইলে পাঠাওয়ের সিইও ফাহিম আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘রাইড শেয়ারিং বাংলাদেশে নগর যাতায়াত ব্যবস্থায় একটি মৌলিক পরিবর্তন এনেছে, যার মাধ্যমে লাখো মানুষের জন্য যাতায়াত আরও সহজ, দ্রুত ও সাশ্রয়ী হয়েছে। যাতায়াতের পাশাপাশি এটি ব্যাপক কর্মসংস্থান ও আয়ের সুযোগও সৃষ্টি করেছে, যেখানে অসংখ্য মানুষ আয় করার সুযোগ পাচ্ছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘পাঠাওয়ের মাধ্যমে একজন সক্রিয় মোটরসাইকেল রাইডার মাসে সর্বোচ্চ প্রায় ৬০ হাজার টাকা এবং একজন কার ক্যাপ্টেন সর্বোচ্চ প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করার সুযোগ পান। পাঠাওয়ে আমরা সব সময় প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান, ন্যায্য আয়ের কাঠামো এবং মানসম্মত সেবার মাধ্যমে রাইডার ও ব্যবহারকারীদের ক্ষমতায়নে কাজ করছি। পাশাপাশি দেশের টেকসই পরিবহন ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখছি।’
সাড়ে তিন লাখের বেশি চালক ও রাইডার রয়েছে উবারে
বর্তমানে সাড়ে তিন লাখের বেশি চালক ও রাইডার রয়েছে বিদেশি প্রতিষ্ঠান উবারের। প্রতিষ্ঠানটি এরই মধ্যে দেশে ৯ বছর পূর্ণ করেছে। তবে, চলতি বছরের এখন পর্যন্ত উবারের নিবন্ধিত রাইডার ও ড্রাইভারের সংখ্যা কত- সেটি জানা যায়নি। প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগের দায়িত্বে থাকা দেশীয় একটি পিআর প্রতিষ্ঠানকে ই-মেইল করে ও একাধিকবার হোয়াটঅ্যাপে উত্তর চেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষা শেষেও তাদের সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিষ্ঠানটির ২০২৪ সালের সবশেষ তথ্য বলছে, বাংলাদেশে রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম উবার ৭২ লাখের বেশি রাইডারকে সেবা দিয়েছে এবং ৩ লাখ ৫০ হাজারের বেশি ড্রাইভার-পার্টনারদের জীবিকার সুযোগ করে দিয়েছে। আর প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫ সালের সবশেষ তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি।
যাত্রীদের অভিজ্ঞতা
টঙ্গীর বাসিন্দা মারুফ হোসেনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রাজধানীর ইব্রাহিমপুর এলাকায়। তিনি নিয়মিত উবার ও পাঠাওয়ের বাইকে যাতায়াত করেন। জাগো নিউজকে মারুফ বলেন, ‘গণপরিবহনে যাতায়াতে অনেক সময় লাগে। আবার বাসও পাওয়া যায় না। বাসে ধাক্কাধাক্কি লাগে। আর রাইড শেয়ারে কম সময়েই গন্তব্যে যাওয়া যায়। রাস্তাঘাটে জ্যাম থাকলে অন্য রোড ব্যবহার করা যায়। এসব কারণেই উবার-পাঠাও ব্যবহার করি।’

তিনি আরও বলেন, পাঠাও ও উবারের চালকরা যাত্রীদের জন্য খুবই নিম্নমানের হেলমেট রাখেন। এগুলো কেবল মামলা থেকে বাঁচতে লোক দেখানো হেলমেট। আবার চালকদের অনেকেই রিকোয়েস্ট ক্যানসেল করেন। অ্যাকসেপ্ট করেও কোথায় যাবো জানতে চায়। আর অন্তত ১০ শতাংশ রাইডার ভাড়া নিয়ে বারগেনিং করে। অ্যাপসে না গিয়ে একই ভাড়ায় কিংবা বেশি ভাড়ায় চুক্তিতে যেতে চান। আবার কেউ কেউ নামার পরও বাড়তি টাকা চান।’
আরও পড়ুন
নির্বাচন ঘিরে বিক্রি বেড়েছে মোটরসাইকেলেরপ্রয়োজন থেকে শখ, তরুণদের পছন্দের শীর্ষে দামি মোটরসাইকেল
সেগুনবাগিচার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন মহাখালীর বাসিন্দা মাহমুদ সজীব। তিনি বলেন, ‘অফিসে মাঝেমধ্যেই উবার বা পাঠাওয়ের বাইকে যাই। আবার কখনো ক্ষ্যাপের বাইকেও যাই। বাসে গেলে অনেক সময় দেরি হয়। তাই বাধ্য হয়েই রাইড শেয়ারিং সেবা ইউজ করি। এটি আমাদের জীবন অনেক সহজ করে দিয়েছে।’
উবারের গাড়ি দিয়ে পরিবার নিয়ে মাঝেমধ্যে ঘুরতে বের হন কাজীপাড়ার বাসিন্দা ইব্রাহিম। তিনি বলেন, ‘রাইড শেয়ারিং সেবা আসায় অনেক উপকার হয়েছে। নিজের গাড়ি নেই। কিন্তু কয়েক টাকা খরচ করে পরিবার নিয়ে ঘুরতে বের হতে পারি। গণপরিহনে নিরাপত্তা কম। কিন্তু গাড়িতে নিরাপত্তা ভালো। এ কারণেই টাকা বেশি লাগলেও উবার বা পাঠাওয়ের গাড়িতে পরিবার নিয়ে বের হই।’
রাইড শেয়ারিং চালকদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতির সুপারিশ
রাইড শেয়ারিং চালকদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সুপারিশ করেছে শ্রম সংস্কার কমিশন। একইসঙ্গে এ খাতকে নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রতিষ্ঠারও সুপারিশ করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে সম্প্রতি জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে এসব সুপরিশ করা হয়। শ্রম অধিকার, ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের স্বার্থে এসব সুপারিশ করে কমিশন। শ্রমিকরাও রাইড শেয়ারিং সেবায় কমিশন কমিয়ে আনার জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন। উবার ও পাঠাও বেশি কমিশন কাটায় অনেকে বাধ্য হয়ে চুক্তিতে রাইড শেয়ার করছেন। এতে রাইড শেয়ারিং সেবার মূল ধারণার বিচ্যুতি ঘটেছে বলে করেন সেবা গ্রহণকারীরা। চুক্তিতে রাইড শেয়ার করা বাইকারদের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে ওঠার ঘটনাও রাস্তা-ঘাটে এখন অহরহ ঘটছে।

রাইড শেয়ারে কমিশন ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি
রাইড শেয়ারিংয়ে কমিশন ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি রয়েছে চালকদের। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ‘রাইড-শেয়ারিং সার্ভিস গাইডলাইনস ২০১৭ (সংশোধিত ২০২৫)’ এর খসড়া নিয়ে বৈঠকেও এ দাবি করে চালকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন। চালকরা বলছেন, উবার শহরের ভেতরে ২৫ শতাংশ ও শহরের বাইরে ২২ শতাংশ কমিশন কাটে। পাঠাও ৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেয়। এতে চালকদের আয় কমে যাচ্ছে। এই কমিশন ১০ শতাংশ করার দাবি তাদের।
এ বিষয়ে ছয় বছর ধরে রাইড শেয়ারিংয়ে যুক্ত স্বপন বলেন, ‘প্রথম কয়েক বছর অ্যাপসে চালাতাম। এখন আর অ্যাপসে চালাই না। চুক্তিতে ভাড়া মারি। কারণ অ্যাপসে ভাড়া কম আসে। অ্যাপসে চালালে তেলের টাকাও হয় না। এখান (খামারবাড়ি) থেকে এয়ায়পোর্টের ভাড়া দেয় ১৮০ টাকা, কন্ট্রাকে গেলে ২৫০ টাকায় যেতে পারি। কমিশন কমিয়ে ১০ শতাংশ করা দরকার। কমিশন কমালে আমরা হয়তো আবার উবার-পাঠাও ব্যবহার করে রাইড শেয়ার করবো।’
জানতে চাইলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম খান জাগো নিউজকে বলেন, ‘মোটরসাইকেল শিল্পে নতুন অনেক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। উবার ও পাঠাওয়ের মতো অ্যাপ জনপ্রিয় হওয়ায় অনেকেই এ পেশায় এসেছেন। এটিতে ভর করে অনেকের কর্মসংস্থান হয়েছে। আবার গাড়িভাড়া নিয়ে কিংবা কিনে অনেকেই রাইড শেয়ারিং করছেন। এতে তাদের আয়ও ভালো হচ্ছে। এটি অর্থনীতির গতিকে সচল রাখছে। অনেকেই এখানে কর্মসংস্থান পাচ্ছেন। ফলে রাইড শেয়ারিং খাত নিয়ে সরকারের আরও মনযোগ দেওয়া উচিত।’
ইএইচটি/এএমএ/এএসএ/এমএফএ/জেআইএম

Daraz horizontal banner
Daraz square banner
technoviable
technoviable

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সম্পর্কিত পোস্ট