রবিবার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬ | সময়: বিকেল ৪:৩২

শীতে কাঁপছে চুয়াডাঙ্গা, তাপমাত্রা ৬.৯ ডিগ্রি

Daraz horizontal banner

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় হঠাৎ তীব্র শীতের দাপটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় জেলায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি জেলায় মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
তাপমাত্রায় কমায় জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর, শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষ।
সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করে। এসময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল প্রায় ৯৫ শতাংশ। জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
ভোর থেকেই শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়, বাসস্ট্যান্ড ও চায়ের দোকানের সামনে জড়ো হতে দেখা গেছে নিম্ন আয়ের মানুষদের। অনেকেই আগুন জ্বালিয়ে শরীর গরম করার চেষ্টা করছেন।
শ্রমজীবীরা জানান, তীব্র শীতের কারণে কাজে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।কৃষক ও দিনমজুরদের ভাষ্য, ভোরে কাজে বের হলেই হাত-পা অবশ হয়ে আসে। মনে হয় বরফে দাঁড়িয়ে আছি। তবুও জীবিকার তাগিদে বাইরে বের হতে হয়। অনেক সময় কাজ না পেয়ে শীতের মধ্যেই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।
শীতের প্রভাব পড়েছে স্বাস্থ্য খাতেও। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। চিকিৎসকদের মতে, শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের মধ্যে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি ও ডায়রিয়ার প্রকোপ তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে।
শিক্ষার্থীরাও শীতের ভোগান্তির বাইরে নয়। ভোরে প্রাইভেট পড়তে যাওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসের কারণে যানবাহনে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে অনেকেই হেঁটে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে।
শীতের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যেও দেখা দিয়েছে মন্দাভাব।
ব্যবসায়ীরা জানান, সকাল ১১টার আগে দোকানে তেমন ক্রেতার দেখা মিলছে না। শীতের প্রভাবে ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও লেনদেন স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কমে গেছে।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ মো. জামিনুর রহমান জানান, জেলার ওপর দিয়ে আগামী ১১ বা ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময় শীত আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
হুসাইন মালিক/এমএন/এমএস

Daraz horizontal banner
technoviable
Daraz square banner
technoviable

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ
আড়ালে থাকো দৃ

আড়ালে থাকো দৃ, বাহিরে অনেক শোরগোলআড়ালে থাকো দৃ, বাহিরে অনেক