রাজধানীর উত্তরায় গৃহকর্মীর ছদ্মবেশে প্রবেশ করে বৃদ্ধাকে অজ্ঞান করে চুরি এবং পরবর্তীতে একই কৌশলে আরেক ঘটনায় মৃত্যুর মতো গুরুতর অপরাধের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) মিরপুর পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, রাজধানীর উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা মো. ইবনুল আলম পলাশের বাসায় ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট এক অজ্ঞাতপরিচয় নারী গৃহকর্মীর কাজ নেন। পরদিন এনআইডি আনার কথা বলে কাজে যোগ দেন তিনি।
ঘটনার দিন বাসার মালিক ও তার স্ত্রী বাইরে গেলে ওই নারী গৃহকর্মী বাসায় থাকা বৃদ্ধা রওশনারা বেগমকে নাস্তার সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ান। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তার হাতে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় উত্তরা পূর্ব থানায় মামলা দায়ের হলেও দীর্ঘদিন তদন্ত করেও আসামিকে শনাক্ত করতে পারেনি থানা পুলিশ। পরবর্তীতে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন।
পিবিআই তদন্তের এক পর্যায়ে চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি উত্তরা পশ্চিম এলাকায় একই ধরনের আরেকটি ঘটনায় গৃহকর্মীর মাধ্যমে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে চুরি এবং ভিকটিমের মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসে। দুই ঘটনার কৌশলগত মিল বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করেন।
পরবর্তীতে গাজীপুর এলাকা থেকে বিলকিস বেগম (৪০) নামে ওই নারীকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি উভয় ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন।
অতিরিক্ত ডিআইজি এনায়েত হোসেন আরও বলেন, গ্রেফতার বিলকিস বেগম গৃহকর্মীর ছদ্মবেশে বিভিন্ন বাসায় কাজ নিতেন এবং সুযোগ বুঝে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে ভিকটিমকে অচেতন করে স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুট করতেন। চুরি করা স্বর্ণালংকার তিনি গাজীপুরে পরিচিত এক নারীর মাধ্যমে বিক্রি করতেন।
পিবিআই জানিয়েছে, আধুনিক প্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই জটিল মামলার রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হয়েছে।
টিটি/এমএএইচ







