শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬ | সময়: বিকেল ৩:৪৩

১১ বছর নিখোঁজ থাকার পর ভারত থেকে ফিরলেন শান্তনা

Daraz horizontal banner

দীর্ঘ ১১ বছর নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে ভারত থেকে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফিরেছেন শান্তনা বেগম (৪৫) নামের এক নারী।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বিকেলে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে তাকে হস্তান্তর করেন। এ সময় বিজিবি, বিএসএফ, পুলিশ ও মানবাধিকার সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ফেরত আসা নারী শান্তনা বেগম গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার উত্তর রাজিবপুর গ্রামের আবুল সালামের মেয়ে। তার স্বামী স্থানীয় একটি আদালতে মুহুরীর কাজ করতেন। তার নাম সেকেন্দার আলী।
শান্তনার পরিবারের লোকজন জানান, শান্তনা মানসিক প্রতিবন্ধী ছিল। দাম্পত্য জীবনে তিনি ৪ পুত্র সন্তানের জননী। ১১ বছর আগে নিখোঁজ হন তিনি। দেশে অনেক খোঁজাখুঁজি করে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
জানা যায়, নিখোঁজের ১১ বছর পর ভারতের কানপুরের একটি আশ্রয় কেন্দ্রে গত বছরের ১৭ জুলাই তার সন্ধান পান পশ্চিমবঙ্গের ‘ঈশ্বর সংকল্প’ নামের একটি বেসরকারি সংস্থার সমন্বয়ক তপন প্রধান। তপন প্রধান এবং বাংলাদেশের ফটো সাংবাদিক শামসুল হুদার সহায়তায় শান্তনা আজ দেশে ফিরল। একেবারেই নিজ উদ্যোগে শামসুল হুদা দীর্ঘদিন ধরে মূল পেশার পাশাপাশি ক্রসবর্ডার মিসিং পিপলদের খুঁজে বের করার কাজটি করে আসছেন।

সাংবাদিক শামসুল হুদা বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ‘ঈশ্বর সংকল্প’ নামের একটি বেসরকারি সংস্থার সমন্বয়ক তপন প্রধানের মাধ্যমে শান্তনার খোঁজ পাই। শান্তনা শুধু তার স্বামীর নাম এবং ঠিকানা বলতে পারতেন। কীভাবে সে ভারতে গেলো তার কোনো বর্ণনা সে বলতে পারতেন না। পরে তার দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী দীর্ঘ প্রচেষ্টায় তার স্থানীয় চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান মন্ডলকে ফোন করি। তারপর পেয়ে যাই মেয়েটির বাবা আব্দুল সালাম আকন্দকে। দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে আজ শান্তনাকে দেশে ফেরত আনা হলো।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার নামের এনজিও সংস্থা তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে।
এনজিও সংস্থা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার যশোরের ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর শফিকুল ইসলাম জানান, ভারত থেকে আসা শান্তনাকে থানার কার্যক্রম শেষে সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে আসা শান্তনার ছেলে ও বোন এর নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে ।
মো. জামাল হোসেন/কেএইচকে/এমএস

Daraz horizontal banner
technoviable
technoviable
Daraz square banner

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সম্পর্কিত পোস্ট