মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ | সময়: রাত ৭:২১

সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে

Daraz horizontal banner

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) উদ্যোগ, উৎসাহ এবং সক্ষমতা প্রয়োগে বড় ধরনের ঘাটতি দৃশ্যমান। এছাড়া নির্বাচনে প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে সেই ভরসাও এখন পর্যন্ত ভালোভাবে আসেনি।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ নগরীর চর কালিবাড়ি এলাকায় ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের প্রাক-নির্বাচনি উদ্যোগের আঞ্চলিক পরামর্শ সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে আইনি সুষ্ঠু প্রয়োগের বিষয়টি দেখা যাচ্ছে না। সেজন্য নাগরিকদের মধ্যে অস্বস্তিবোধ রোধ করা যায়নি। সেজন্য সরকারি পদক্ষেপ, নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ ও প্রশাসনের পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে জনগণ।
পরামর্শ সভায় ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সংস্কার এবং নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর যে পরিবর্তনের সুযোগ এসেছে, তাকে হেলায় হারানো উচিত হবে না। এই সময়ে প্রতিটি নাগরিকের তার প্রত্যাশা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, নাগরিক প্ল্যাটফর্ম একটি ‘নাগরিক ইশতেহার’ প্রস্তুতের চেষ্টা করছে, যা স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরবে। এটি আগামী এক-দুই মাস ধরে প্রচারাভিযান চালিয়ে সব রাজনৈতিক দলের কাছে তুলে ধরা হবে।
তিনি বিভিন্ন বৈষম্য ও সমস্যা তুলে ধরে বলেন, আমরা যদি সমস্যাটাকে স্বীকার করি এবং সেটার জন্য কাজ করি, সমাধান বের করা সম্ভব। হিজড়া জনগোষ্ঠীর টিকা সংক্রান্ত জটিলতার সমাধান তার একটি উদাহরণ।
নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, গত আন্দোলনের শিক্ষা হলো, জনগণের কথা না শুনলে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে হবে। জনগণের কথা যদি না শোনেন, তাহলে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে হবে।
তিনি ‌‘বাংলাদেশ রিফর্ম ওয়াচ’ উদ্যোগের কথা বলেন, যার মাধ্যমে নাগরিকের দৃষ্টিকোণ থেকে সংস্কারের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
সিপিডির ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পরিবর্তন সম্ভব, সেটা কিন্তু গত জুলাই আগস্টে আমরা দেখেছি। রাজনীতিবিদরাও এই আন্দোলন থেকে শিক্ষা নিয়েছেন। জনগণের মধ্যে যে সচেতনতা এসেছে, তা একটি বড় শক্তি। এই শক্তিই নির্বাচিতদের জবাবদিহিতার কাঠগড়ায় আনতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, বাক স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্বশীলতারও একটি সম্পর্ক আছে। সচেতন জনগণই গণতন্ত্রের মূল শক্তি। স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সচেতনতাকে জাগিয়ে রাখতে হবে। তৃণমূল থেকে সংগৃহীত উপাদানের ভিত্তিতে প্রণীত নাগরিক ইশতেহার যেন রাজনৈতিক ইশতেহারে প্রতিফলিত হয়, সেই লক্ষ্যে চাপ বজায় রাখতে হবে।
সভায় স্থানীয় রাজনীতিবিদ, নাগরিক সমাজ, শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী, যুব সমাজ এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। অনেকেই তাদের প্রত্যাশা ও মতামত তুলে ধরেন। নাগরিকদের প্রধান প্রত্যাশা হিসেবে ‘সুশাসন’ সবচেয়ে বড় পরিসরে উঠে আসে।
আয়োজনের শুরুতেই নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য নাগরিক প্ল্যাটফর্মে চলমান কার্যক্রম ‘বাংলাদেশ রিফর্ম ওয়াচ’ এর প্রেক্ষাপট এবং এর আওতাধীন নাগরিক ইশতেহার প্রস্তুতকরণের প্রেক্ষাপট ও এর কার্যপরিধি উপস্থিত সবার সামনে ব্যক্ত করেন। এরপর ময়মনসিংহের নাগরিকেরা তাদের প্রত্যাশা প্রকাশের জন্য একটি ডিজিটাল ভোটিং প্রক্রিয়ায় অংশ নেন।
কামরুজ্জামান মিন্টু/কেএইচকে/এমএস

Daraz horizontal banner
technoviable
Daraz square banner
technoviable

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সম্পর্কিত পোস্ট