বর্তমান সময়ে শিশুদের জীবনে পড়াশোনার চাপ যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে মনোযোগের সমস্যা। অনলাইন ক্লাস, মোবাইল গেম, সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক শিশুর জন্য দীর্ঘ সময় এক জায়গায় বসে মন দিয়ে পড়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অনেক অভিভাবক বিকল্প উপায় খুঁজছেন, যার মধ্যে যোগব্যায়াম একটি জনপ্রিয় ও কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে উঠে আসছে।
যোগব্যায়াম ও মনোযোগের সম্পর্ক
যোগব্যায়াম শুধু শরীরচর্চা নয়, এটি একটি মানসিক প্রশিক্ষণও। শ্বাস-প্রশ্বাসের নিয়ন্ত্রণ, ধীর গতির স্ট্রেচিং এবং মনোযোগ ধরে রাখার অনুশীলনের মাধ্যমে শিশু ধীরে ধীরে নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে।
যোগব্যায়ামের সময় শিশুদের নির্দিষ্ট ভঙ্গিতে স্থির থাকতে হয় এবং শ্বাসের প্রতি সচেতন থাকতে হয়। এই প্রক্রিয়া তাদের মস্তিষ্ককে ‘একটি কাজের প্রতি মনোযোগ ধরে রাখতে’প্রশিক্ষণ দেয়। ফলে ধীরে ধীরে পড়াশোনার সময় মনোযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রবণতা কমে।
পড়াশোনায় কীভাবে সাহায্য করে
নিয়মিত যোগব্যায়াম করলে শিশুদের মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি উন্নত হতে পারে। কারণ, ব্যায়াম মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, যা ব্রেইনের কার্যক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করে।
এছাড়া যোগব্যায়াম মানসিক চাপ কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরীক্ষার ভয়, হোমওয়ার্কের চাপ বা প্রতিযোগিতার দুশ্চিন্তার কারণে অনেক শিশু পড়ার সময় অস্থির হয়ে পড়ে। ইয়োগা এই চাপ কমিয়ে মনকে শান্ত করে, ফলে পড়াশোনায় মন বসানো সহজ হয়।ধীরে ধীরে শিশুদের মধ্যে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও ধৈর্যও বাড়ে, যা দীর্ঘ সময় ধরে পড়াশোনা করার জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।
স্ক্রিন টাইম কমাতে কার্যকর
আজকের দিনে শিশুদের মনোযোগ কমে যাওয়ার বড় একটি কারণ হলো অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম। মোবাইল বা ট্যাব ব্যবহারের ফলে তাদের মন দ্রুত এক বিষয় থেকে অন্য বিষয়ে চলে যায়।
যোগব্যায়াম এই অভ্যাস পরিবর্তনে সাহায্য করতে পারে। নিয়মিত যোগা করলে শিশুরা ধীরে ধীরে স্থির থাকতে অভ্যস্ত হয় এবং তাদের মনোযোগের সময়সীমা বাড়ে। ফলে পড়াশোনায়ও তারা বেশি সময় ধরে মনোযোগ ধরে রাখতে পারে।
সহজ কিছু যোগা অভ্যাস
শিশুদের জন্য জটিল যোগ ব্যায়াম করার প্রয়োজন নেই। বরং সহজ কিছু অভ্যাসই যথেষ্ট। যেমন: গভীর শ্বাস নেওয়া, হালকা স্ট্রেচিং, বা কয়েক মিনিট চুপ করে বসে থাকা। এগুলো প্রতিদিন ১০-১৫ মিনিট অনুশীলন করলেই ধীরে ধীরে পরিবর্তন দেখা যায়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, যোগ ব্যায়াম যেন চাপ হিসেবে না নেওয়া হয়। এটি যদি খেলার ছলে শেখানো যায়, তাহলে শিশুরা আগ্রহ নিয়ে অংশগ্রহণ করবে।
অভিভাবকের ভূমিকা
শিশুদের যোগার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে অভিভাবকদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জোর করে নয়, বরং নিজেরা অংশগ্রহণ করে উদাহরণ তৈরি করলে শিশুরা দ্রুত শেখে।
একসঙ্গে ইয়োগা করলে পারিবারিক বন্ধনও মজবুত হয়, যা শিশুর মানসিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।যোগব্যায়াম সরাসরি কোনো ম্যাজিক নয়, তবে এটি একটি কার্যকর অভ্যাস যা সময়ের সঙ্গে শিশুদের মনোযোগ, ধৈর্য এবং মানসিক স্থিরতা বাড়াতে সাহায্য করে। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে এটি পড়াশোনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই শিশুর দৈনন্দিন রুটিনে অল্প সময়ের জন্য হলেও যোগা অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। এতে শুধু পড়াশোনাই নয়, বরং তার সার্বিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশও আরও সুন্দরভাবে গড়ে উঠবে।
সূত্র: হার্ভার্ড হেলথ, দ্য ন্যাচারাল প্যারেন্ট ম্যাগাজিন, টাইমস অব ইন্ডিয়া
আরও পড়ুন:অনলাইন ক্লাসে সন্তানের মন বসে না? জানুন মনোযোগ ধরে রাখার উপায় সন্তানকে গুড টাচ-ব্যাড টাচ শেখানোর সঠিক বয়স কোনটি
এসএকেওয়াই







