রবিবার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬ | সময়: সকাল ৭:১৬

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাংলাদেশিদের লাগবে ১৮ লাখ টাকা পর্যন্ত বন্ড

Daraz horizontal banner

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে ভিসা বন্ড বা জামানত দেওয়ার শর্তযুক্ত দেশের তালিকা প্রায় তিন গুণ বাড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সর্বশেষ বাংলাদেশসহ আরও ২৫টি দেশকে এই তালিকায় যুক্ত করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
এর আগে এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে সাতটি দেশকে ভিসা বন্ডের আওতায় আনা হয়েছিল। নতুন সংযোজনের ফলে মঙ্গলবার পর্যন্ত তালিকাভুক্ত দেশের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮টি। পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই নিয়ম আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর বেশিরভাগই আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার। বাংলাদেশের পাশাপাশি এতে রয়েছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, নেপাল ও উগান্ডাসহ একাধিক দেশ। দেশভেদে এই নীতির কার্যকর হওয়ার তারিখ ভিন্ন হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর পাসপোর্টধারীরা যদি বি-১/বি-২ (ব্যবসা ও পর্যটন) ভিসার জন্য যোগ্য হন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের সময় তাদের ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় সর্বোচ্চ বন্ডের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা (প্রতি ডলার ১২২.৩১ টাকা হিসাবে)।
ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও ইন্টারভিউয়ের ভিত্তিতে কনস্যুলার অফিসার বন্ডের অঙ্ক নির্ধারণ করবেন। আবেদনকারীদের মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বন্ড প্রদানে সম্মতি জানাতে হবে। তবে কনস্যুলার অফিসারের নির্দেশনা ছাড়া আগাম কোনো অর্থ জমা না দিতে সতর্ক করেছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট।
এই ভিসা বন্ড নীতি একটি পাইলট কর্মসূচির আওতায় গত আগস্টে প্রথম চালু করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, যেসব দেশের নাগরিকদের মধ্যে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে থেকে যাওয়ার হার বেশি, মূলত সেসব দেশকেই এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।
বন্ড ফেরত পাওয়ার শর্তস্টেট ডিপার্টমেন্ট জানায়, ভিসা বন্ড স্থায়ীভাবে কেটে রাখা হবে না। এটি একটি ফেরতযোগ্য জামানত। নিচের পরিস্থিতিতে বন্ডের টাকা ফেরত পাওয়া যাবে অনুমোদিত সময়ের মধ্যে বা তার আগেই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে, ভিসা পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ না করলে বা মার্কিন বিমানবন্দরে প্রবেশে বাধা দেওয়া হলে।
তবে কেউ যদি নির্ধারিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন অথবা সেখানে গিয়ে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করেন (যেমন রাজনৈতিক আশ্রয় বা অ্যাসাইলাম), তাহলে বন্ডের অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হবে।
নির্দিষ্ট তিন বিমানবন্দর দিয়ে প্রবেশ বাধ্যতামূলকভিসা বন্ড প্রদানকারী যাত্রীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে তিনটি বিমানবন্দর নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশি যাত্রীরা কেবল নিম্নোক্ত বিমানবন্দরগুলো দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন। সেগুলো হলো- বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট ও ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট।
এই নির্ধারিত পথ ছাড়া অন্য কোনো পথে প্রবেশ বা বের হলে বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে বলে গণ্য হতে পারে, যা বন্ড ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করবে।
ভিসা বন্ড কীভিসা বন্ড হলো একটি আর্থিক নিশ্চয়তা, যা সাময়িক ভিসা দেওয়ার আগে কিছু দেশের নাগরিকদের কাছ থেকে নেওয়া হয়—যাতে তারা ভিসার শর্ত, বিশেষ করে অনুমোদিত থাকার সময়সীমা মেনে চলেন।
প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে হাজারো বিদেশি শিক্ষার্থী, পর্যটক ও কর্মীকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেয়। এসব ভিসার মেয়াদ কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত হতে পারে। অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান করলে সেটিকে ভিসা ওভারস্টে হিসেবে গণ্য করা হয়।
এই নতুন নিয়মের ফলে বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়া আরও ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেপিআই/এমআইএইচএস/এমএস

Daraz horizontal banner
technoviable
technoviable
Daraz square banner

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সম্পর্কিত পোস্ট