শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬ | সময়: সকাল ৬:২৯

নেপালের অভ্যুত্থানে সহিংসতার অভিযোগে গ্রেফতার ৪০০ জনেরও বেশি

Daraz horizontal banner

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ঘটে যাওয়া নেপালের অভ্যুত্থানে সহিংসতার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে ৪০০ জনেরও বেশি মানুষকে। বিক্ষোভ চলাকালে হত্যাকাণ্ড, ভাঙচুরসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ৪২৩ জনকে গ্রেফতার করেছে দেশটির পুলিশ। সোমবার (১০ নভেম্বর) প্রকাশিত সরকারি তথ্যে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে হত্যার পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র রাখাসহ তা ব্যবহার, চুরি ও অশোভন আচরণের অভিযোগও আনা হয়েছে।
নেপাল পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে বলেন, একটি বিশেষ দল ঘটনাগুলো তদন্ত করছে এবং আমরা প্রমাণ ও তথ্য সংগ্রহে কাজ করছি।
গত ৮ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা জারির পর দেশজুড়ে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। জেন জি নামে পরিচিত ২৮ বছরের নিচের তরুণদের নেতৃত্বে এই আন্দোলন দ্রুতই অর্থনৈতিক সংকট ও দুর্নীতির প্রতিবাদে রূপ নেয়।
দুই দিনের সহিংসতায় অন্তত ৭৬ জন নিহত হন বলে পুলিশ নতুন হিসাব প্রকাশ করেছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৬৩ জন বিক্ষোভকারী, ১০ জন পালিয়ে যাওয়া কয়েদি এবং ৩ জন পুলিশ সদস্য।
দেশজুড়ে সরকারি অফিস, পুলিশ স্টেশন, হোটেল, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দলের কার্যালয় ও রাজনীতিকদের বাড়িসহ অন্তত ২ হাজার ৭০০ স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। এমনকি সুপারমার্কেট, দোকানপাট ও সাধারণ নাগরিকদের বাসাও লুট করা হয়।
বিক্ষোভের দ্বিতীয় দিন কিছু প্রতিবাদকারীকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া রাইফেল হাতে দেখা যায়। এ সময় দেশজুড়ে ১৪ হাজার ৫০০ কয়েদি জেল থেকে পালিয়ে যায় বলে জানায় প্রশাসন। এর মধ্যে প্রায় ৫ হাজার ২০ জন এখনো পলাতক।
অভ্যুত্থান-পরবর্তী বিশৃঙ্খলায় তরুণ কর্মীরা ডিসকর্ড নামের গ্রুপ-চ্যাট অ্যাপে আলোচনার মাধ্যমে ৭৩ বছর বয়সী সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনয়ন দেন। পরবর্তী সময়ে তিনিই অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেন, যা ২০২৬ সালের মার্চে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওম প্রকাশ আর্যাল শনিবার জানান, পলাতক কয়েদিদের ধরতে ও ছিনিয়ে নেওয়া অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান শুরু করা হবে।
অন্যদিকে, তরুণ নেতৃত্বাধীন ‘জেন জি’ আন্দোলনের প্রতিনিধিরা আর্যালের পদত্যাগ দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, তরুণ বিক্ষোভকারীদের ওপর দমনপীড়নের ঘটনায় দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।
সরকার এরই মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি ও আরও চারজন সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। একই সঙ্গে, সেপ্টেম্বরে সংঘটিত সহিংসতার কারণ ও দায় নির্ধারণে একটি তদন্ত কমিশনও কাজ করছে।
সূত্র: এএফপি
এসএএইচ

Daraz horizontal banner
technoviable
technoviable
Daraz square banner

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সম্পর্কিত পোস্ট